1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

রংপুরে চার খুনের মূল রহস্য উন্মোচন: ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় নির্মম হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ২

প্রতিবেদনঃ স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইমঃ 23-08-2026 ইং
  • 12496 বার পঠিত
ad728

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার নৃশংস ও রোমহর্ষক ঘটনার জট খুলেছে পুলিশ। বাড়িতে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং চিনে ফেলার ভয়ে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও

১২ বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ ও আঘাত করে হত্যা করে দুই যুবক। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। এদের মধ্যে মুগ্ধ বাজারে মাছ বিক্রির কাজ করেন এবং সিদ্ধার্থ একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণ কারিগর হিসেবে নিয়োজিত।

রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের ভবনের ছাদ ডিঙিয়ে

গণপতি চক্রবর্তীর ছাদ উঠে ইয়াবা সেবন করছিল মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গেলে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং প্রতিবাদ করেন। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তীকে (১২) হত্যা করে অভিযুক্তরা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের আগে থেকেই চিনত এবং সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের বন্ধু ছিল। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। নৃসংশ এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে—

সেখানে তারা গোসল করে, খেজুর ও শসা খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। পরবর্তীতে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পথঘাট ফাঁকা হলে ঘরের মালামাল এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

তদন্তের বিষয়ে পুলিশ জানায়, ঘরের ভেতর পোড়ানো একটি স্বর্ণের চুড়ির আলামত থেকে সিদ্ধার্থের পেশাগত দক্ষতার বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যে পরিত্যক্ত স্থান থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

আলামত নষ্ট করতে তারা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিল। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের মধ্যে থাকা খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা

দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728
ad728