সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানী থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধারকৃত আলামত ও আসামিদের পরিচয়:
গ্রেপ্তারকৃতরা: মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো. সানি মিয়া (২৫)।
জব্দকৃত আলামত: অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩টি স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন লেনদেনের রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়।
প্রতারণার কৌশল ও মামলার বিবরণ:
ড্রাইভিং ভিসার নামে ট্যুরিস্ট ভিসা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ২,৫০০ রিয়াল বেতনে ড্রাইভিং ভিসার আশ্বাস দিয়ে এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করে চক্রটি। বিভিন্ন দফায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ড্রাইভিং ভিসার বদলে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ: প্রতারণা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বনানী থানায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন।
বিপুল অর্থ আত্মসাৎ: সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পায়, চক্রটি একইভাবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সিআইডির মানবপাচার শাখা বর্তমানে মামলাটির সার্বিক তদন্ত করছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা ভুয়া এজেন্সির প্রলোভনে না পড়ে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সাধারণ নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।