বাংলাদেশে আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামর্থ্য বৃদ্ধিসহ সরকারের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
সংবিধান ও আইনি সংস্কারে সহায়তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় অভিনন্দন জানান ইউএনডিপির প্রতিনিধি। তিনি জানান, সরকার চাইলে এই সাংবিধানিক ও বিচারিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে ইউএনডিপি।
গুজব ও সাইবার সুরক্ষা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে ইউএনডিপি কাজ করছে বলে জানান স্টিফেন রড্রিক্স। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নে ইউএনডিপির লজিস্টিক সহায়তা আহ্বান করেন।
প্রস্তাবিত জোড়া আইন (মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ): স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে পাস হবে। এছাড়া নিজের গুম হওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।
পুলিশের দক্ষতা ও রোহিঙ্গা ইস্যু: নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউএনডিপি। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধস রোধ ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সুরক্ষায় ইউএনডিপির ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমান অবকাঠামোর আধুনিকায়ন চায়, তবে নতুন করে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন