ফেনীর সোনাগাজী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছেন অন্যতম আসামি কামরুন নাহার মণি। দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে বন্দিজীবন কাটানোর পর গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারক কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর খালাসের রায় ঘোষণা করেন।
২০১৯ সালে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কামরুন নাহার মণি। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ফেনী জেনারেল হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। জন্মের মাত্র দুই দিন পর থেকেই মায়ের সঙ্গে কারাগারেই শৈশব কাটে শিশু মোবাশ্বিরা খানম রাথীর (রোজা)। নিম্ন আদালতে যখন ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন মাত্র এক মাস বয়সী শিশুটি ছিল মায়ের কোলে।
মণির খালাসের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অত্যন্ত আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর স্বামী রাশেদুল আলম খান। মেয়েকে কাছে না পাওয়ার দীর্ঘদিনের বেদনা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "বাবা হয়েও বাবা হওয়ার স্বাদ পেলাম না আজও আমি! কড়া নিরাপত্তার কারণে বুকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ ছিল না... কাশিমপুর যাওয়ার পর দুই ফুটের গ্যাপের খাঁচা, ঠিকমতো মেয়েটা দেখতেই পারত না আমাকে।"
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শিশু রাথীর সাত বছর পূর্ণ হতে চলেছে। মেয়েকে ছাড়া এ পর্যন্ত ১৪টি ঈদ ও ৭টি জন্মদিন পার করেছেন বলে জানান তাঁর বাবা। দীর্ঘদিন পর মেয়ের মুখোমুখি হওয়ার উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, "মেয়ের সামনে কীভাবে দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না। জানি না আমাকে চিনবে কিনা রাথী।"
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়া হয় এবং ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আসামিদের আপিল শুনানি শেষে গতকাল হাইকোর্ট মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং মণিসহ ১০ আসামিকে খালাস ঘোষণা করেন।