১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২২ নেতাকর্মীকে এক দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন রিমান্ডের বিষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ ও উদ্ধারকৃত আলামত:
আসামিদের তালিকা: রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— তারেক, শাহিন, তারেক, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক এবং আশিক।
অভিযানের প্রেক্ষাপট: মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২ জন কিশোরকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত আলামত: পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে ২টি আইফোন, ১টি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যানার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ব্যানারে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা লেখা ছিল এবং সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীর ছবি সংবলিত ছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা:
পুলিশ জানায়, আসামিরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি এবং ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়েছিল। এ ছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ভাটারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পূর্বে আদালত ৫২ জনকে কারাগারে পাঠায় এবং বাকি ২ কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু ও কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫৪ জন আসামিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো।