কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার ডিলার 'মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ'-এর গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার আলোচিত ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ডিলারের নানা অনিয়ম ও গাফিলতির কথা উল্লেখ করা হলেও সার লুটের মূল ঘটনায় কাউকেই অভিযুক্ত বা চিহ্নিত করা হয়নি।
একতরফা ও দায়সারা এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় অধিবাসী ও কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ, সন্দেহ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে উক্ত ইউনিয়নে সার বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে শত শত কৃষকের দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানের মূল বিষয়াবলি:
তদন্ত প্রতিবেদন জমা: সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
অনিয়মের প্রমাণ: প্রতিবেদনে ডিলারের বিরুদ্ধে গাফিলতি, সার ক্রেতাদের নগদ রশিদ না দেওয়া এবং সরকারি রেজিস্টারে ঘঁষামাজার অভিযোগের সত্যতা মেলে। এর প্রেক্ষিতে ডিলারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্ট ও রাজনীতির যোগসূত্র: অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘটনার আগের দিন শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ফেসবুকে ডিলারদের জবাবদিহিতা নিয়ে স্ট্যাটাস দেন এবং সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকতে আহ্বান জানান। এছাড়া স্থানীয় বিএডিসির এক প্রভাবশালী সার ডিলার (বিএনপি নেতার ভাই) ও ক্ষুব্ধ খুচরা বিক্রেতাদের সাথে এ ঘটনার যোগসূত্র থাকার গুঞ্জন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি জানান, গোলযোগের আগাম তথ্য তাঁর কাছে ছিল। তবে আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসন বা কৃষি দপ্তরকে আগে ভাগে জানানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল: "রোববার সার বিতরণের কথা ছিল। তবে আগের রাতে কৃষক দল নেতার ফেসবুক পোস্ট ও পরদিন সকালে শত শত মানুষ এসে বেড়া ভাঙার ঘটনার পেছনে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তে এসব উঠে না আসা হতাশাজনক।"
তদন্ত কমিটির সভাপতি (এসি ভূমি): আমিনুল হক তারেক জানান, ফেসবুক পোস্টের বিষয় তাঁদের জানা ছিল না। তাঁরা সরজমিনে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
পুলিশ ও প্রশাসন: ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, ডিলার বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করেছেন। ইউএনও অমৃত দেবনাথ জানান, কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত করতে না পারায় প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।