আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ও জাতিসংঘের আহ্বানে পালিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’। দিবসটি পালনের প্রেক্ষাপটে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত সবচেয়ে আলোচিত গুমের শিকার এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ২০১৫ সালের সেই রোমহর্ষক ঘটনার বিশদ বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সামনে এসেছে।
২০১৫ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে অপহৃত হন। টানা ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আশঙ্কাজনক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তাঁর সন্ধান মেলে।
সালাহউদ্দিন আহমদকে উত্তরার যে ফ্ল্যাট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠজন এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈয়দ হাবিব হাসনাতের। বাসসের প্রতিনিধির কাছে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হাবিব হাসনাত বলেন:
ফ্ল্যাটে আশ্রয় গ্রহণ: গুলশানে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি বেড়ে গেলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বন্ধু হাবিব হাসনাতের সহায়তায় গোপনে উত্তরার ফ্ল্যাটে গিয়ে ওঠেন এবং সেখান থেকেই দলের মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত ভিডিও বার্তা ও বিবৃতি পাঠাতে থাকেন।
তুলে নেওয়ার রাতের দৃশ্যপট: ১০ মার্চ সন্ধ্যায় উত্তরার ওই আবাসিক এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অস্বাভাবিক ও গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের দরজা ভেঙে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যায়।
বিদেশে আত্মগোপন ও হুমকি: ঘটনার পরই গ্রেপ্তার ও গুমের আশঙ্কায় এক কাপড়ে স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হাবিব হাসনাত। পরবর্তীতে সালাহউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
সালাহউদ্দিনকে তুলে নেওয়ার আগে তাঁর দুজন গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। ১০ মার্চ রাতে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি নম্বর সড়ক থেকে অস্ত্রধারীরা পিকআপ যোগে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় বলে একাধিক গণমাধ্যমেও সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ সংগ্রাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত আজকের প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান এই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী হাবিব হাসনাত।