ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা এক নারীকে (৪৪) ধর্ষণের অভিযোগে ট্রেনের ক্যান্টিন বয় আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিমের অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনের পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং তার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার কথা স্বীকার করলেও জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনা, মামলা ও পুলিশি তদন্তের প্রধান প্রধান বিষয়সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
ঘটনার বিবরণ ও ৯৯৯-এ কল: ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা ওই নারীকে সিরাজগঞ্জে স্টপেজ না থাকায় ট্রেনের পুলিশ সদস্যরা ক্যান্টিনে বসিয়ে রাখেন। ৩১ আগস্ট (সোমবার) ভোর ৪টার দিকে ভিকটিম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ জানান যে চলন্ত ট্রেনে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পার্বতীপুর জংশন স্টেশন থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে সান্তাহার জিআরপি থানা-পুলিশ।
মামলা ও এজাহার: ভিকটিমের ছেলের উপস্থিতিতে সান্তাহার জিআরপি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। এজাহারে ক্যান্টিন বয় আবু বকর সিদ্দিক ছাড়াও দুই অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়, যারা ভিকটিমের কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি: মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার আমলী আদালতে আসামির রিমান্ড শুনানিকালে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সে জানায়, নাটোর স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিছানায় ঘুমানোর সময় সমঝোতার ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
আইনগত ব্যবস্থা ও অগ্রগতি: জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত অভিযুক্তকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) শেষে ভিকটিমকে তাঁর ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত অজ্ঞাতনামা দুই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করতে জিআরপি পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।