শেখ হাসিনার ট্রোজান হর্স চরম দুর্নীতি আর নারীবাজ কিভাবে ইউনুসীয় আমল পার করে তারেক রহমানের সরকারের ঘারে সওয়ার হলেন? মেগা লুটপাটে যার নাম একান্ত ভাবে জড়িয়ে কিভাবে তিন তিনটি সরকারেই তিনি এখনো নিজের পদ ধরে রেখেছেন?
২০২৪ এর নভেম্বরে বাংলাদেশ যখন অভিভাবকহীন এক দিক ভ্রান্ত সময় পার করছে, দলীয় প্রভাব আর টাকার গরমে পদ পদবী ও বদলি বাণিজ্যের এই সময়টাকে বেছে নেন শেখ হাসিনার নিজ হাতে নিয়োগ করা পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আফজাল। ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্তেও তিনি কোন যোগ্যতা বলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বোচ্চ পদ মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগের উপযুক্ত বলে গণ্য হলেন?
অন্তর্বর্তী সরকারের এক নোটিসে জানানো হয় রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আফজাল আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে রেলপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। গত এক বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসান আগের চেয়ে বেড়েছে, টিকিটের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেবার মান কি বেড়েছে? ডিজি আফজালের অতীত ইতিহাস কি বলে তিনি নতুন সরকারের জন্য এই সাফল্য এনে দিতে পারবেন?
১৯০৯ সালে ব্রিটিশরা যখন পদ্মা সেতুর উপর রেল সেতু বানায়, সেতু সহ সেতুর দুই প্রান্তেই তারা ডাবল লাইন তৈরী করে।কিন্তু ২০১৫ সালে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের এই পরিচালক ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পদ্মা সেতুতে সিঙ্গেল লাইনের সেতু ওনুমদন করেন ।চীন থেকে নেওয়া আরো ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঋনে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুরোটাই সিঙ্গেল লাইনে তৈরি করে এক মহা হরিলুট করা হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের উঠে উসেছে।হাসিনার এই মেগা লূটপাটে হাতিয়ার হিসেবে যিনি কাজ করেছিলেন তিনি তারেক রহমানের সরকারে বাংলাদেশ রেল ওয়ের প্রধান!
পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি আলোচনায় থাকলেও সর্বশেষ একটি নারী সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র জানায়, সোহেলী আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে আফজাল হোসেনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মীমাংসার দাবিতে ওই নারী ইতোমধ্যে আফজাল হোসেনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আফজাল হোসেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক, আবু জাফর, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সূত্র জানায়, ব্লাস্ট সাপ্লাই, রাস্তা মেরামতসহ বিভিন্ন কাজে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ, নামসর্বস্ব পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, কম প্রতিযোগিতায় টিইসি গঠন এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়ম ছিল নিয়মিত ঘটনা। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রেলওয়ের ভেতরের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের দুর্নীতি ও অডিট আপত্তি ধামাচাপা দিতে একটি অঘোষিত টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, যুগ্মসচিব (অডিট ও আইসিটি) মীর আলমগীর হোসেন, উপসচিব হোসনে আরা, উপপরিচালক শামীমা নাসরিন (বিথি), উপপরিচালক ফারহানা সুলতানা এবং প্রধান পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান এই প্রক্রিয়ায় জড়িত। প্রকল্পের চুক্তিপত্র, অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত কিছু চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে এবং উচ্চ সুদের চীনা ঋণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি প্রস্তুত ও একনেক অনুমোদন—সবকিছুই অস্বাভাবিক দ্রুততা ও গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়।
প্রকল্পে প্রতিদিন ২৪ জোড়া যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হয়েছে। তাতেও প্রতি মাসে বড় অংকের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এক বড় আর্থিক বোঝা ও দুর্নীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।