রিয়াল মাদ্রিদ। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আভিজাত্য আর রাজকীয় সব মুহূর্ত। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই সবুজ ঘাসে সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে দৌড়ানো যতটা গৌরবের, বাঁ হাতে অধিনায়কের ওই আর্মব্যান্ডটা পরা তার চেয়েও বেশি ওজনের। এই আর্মব্যান্ড মানে কেবল নেতৃত্ব নয়, এ এক বিশাল উত্তরাধিকার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়ালের এই অধিনায়কের ফিতাকে কেন যেন ‘বিদায়ের শেষ অলংকার’ বলে মনে হচ্ছে। এক অদ্ভুত অভিশাপ যেন তাড়া করে ফিরছে ক্লাবটির সেনাপতিদের।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে আপনার গায়ে কাঁটা দিতে পারে। এক দশক আগেও রিয়ালের অধিনায়কত্ব ছিল ড্রেসিংরুমের দীর্ঘস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে গল্পটা বদলে গেছে। চিত্রনাট্যটা এখন এমন—যিনিই মৌসুমের শুরুতে ক্লাবের এক নম্বর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, মৌসুম শেষেই তাঁকে স্যুটকেস গোছাতে হচ্ছে। এ তালিকায় দানি কারভাহাল কি তবে শেষ সংযোজন?
গল্পের শুরুটা হয়েছিল সের্হিও রামোসকে দিয়ে। রিয়ালের রক্ষণভাগের সেই ‘এল কাপিতানো’। ২০২১ সালে তিনি ছিলেন প্রথম অধিনায়ক। ভাবা হয়েছিল বার্নাব্যুতেই শেষ হবে তাঁর মহাকাব্য। কিন্তু মৌসুম শেষে চোখের জলে তাঁকে বিদায় নিতে হলো। পরের বছর ২০২২ সালে আর্মব্যান্ড হাতে নিলেন বাঁ পায়ের জাদুকর মার্সেলো। ফলাফল? একই। চ্যাম্পিয়নস লিগ হাতে নিয়ে তিনিও ক্লাব ছাড়লেন।
২০২৩ সালে দায়িত্ব এল করিম বেনজেমার কাঁধে। গোলমেশিন এই ফরাসি স্ট্রাইকারও সেই নিয়ম ভাঙতে পারলেন না। এক মৌসুম শেষেই পাড়ি জমালেন মরুর দেশে। ২০২৪ সালে এলেন নিজেদের একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ থেকে উঠে আসা নাচো ফার্নান্দেজ। রিয়ালের ঘরের ছেলে হয়েও তিনি রক্ষা পেলেন না। মৌসুম শেষে বিদায়ী সংবর্ধনা নিলেন তিনিও।