1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

মাঠের তারকা থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী - এ পর্যন্ত আমিনুল হকের যত কারিশমা

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 14-08-2026 ইং
  • 12660 বার পঠিত
ad728

বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী অতীত আর স্মৃতির পাতা উল্টালেই যার নামটি বারবার ঘুরেফিরে আসে, তিনি আমিনুল হক। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে একাই প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার যে অসাধারণ দক্ষতা ছিল, তা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও উজ্জ্বল। সেই সবুজ গালিচার অকুতোভয় গোলরক্ষক থেকে শুরু করে রাজনীতির রাজপথ পেরিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসীন হওয়া আমিনুল হকের এই বর্ণাঢ্য পথচলা কেবল রোমাঞ্চকরই নয়, বরং এক অনন্য কারিশমার রূপকথা।  

আমিনুল হকের মূল কারিশমার সূচনা হয়েছিল ফুটবল মাঠে। দীর্ঘ দুই দশকের খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের আস্থার শেষ প্রতীক। বিশেষ করে ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশকে শিরোপা জেতানোর পেছনে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। কেবল গোল ঠেকানো নয়, মাঠজুড়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং পোস্টের পেছনে তার ইস্পাতকঠিন উপস্থিতি জাতীয় দলকে বারবার জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। 

ঘরোয়া ফুটবলে ঢাকা আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের হয়ে তিনি যে অবিস্মরণীয় পারফর্ম করেছেন, তা তাকে পরিণত করেছিল কোটি ফুটবল ভক্তের নয়নের মনিতে।  

তবে আমিনুল হকের আসল চমক দেখা যায় খেলাধুলার পাঠ চুকানোর পর। গ্লাভস জোড়া খুলে রেখেই তিনি হাঁটতে শুরু করেন রাজনীতির এক কঠিন ও জটিল পথে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ব্যানারে ক্রীড়াঙ্গনের তারকা থেকে সরাসরি রাজপথের রাজনীতিতে নেমে আসা ছিল একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, জেল-জুলুম আর নানা সামাজিক চাপের মুখেও তিনি তার আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থেকেছেন। মাঠের ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তাকে রাজনীতিতেও ব্যবহার করেছেন দারুণ দক্ষতায়।  

রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করার মাধ্যমে আমিনুল হকের জীবনের নতুন এক রূপান্তর ঘটে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মন্ত্রী হিসেবে তিনি মাঠের অভিজ্ঞতাকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কাজে লাগাতে শুরু করেন। 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তার বেশ কিছু যুগান্তকারী কীর্তি বিশেষ নজর কেড়েছে। এর মধ্যে আছে তৃণমূল ক্রীড়া কাঠামো পুনর্গঠন, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টগুলো পুনর্বাসনের মাধ্যমে উদীয়মান প্রতিভাদের তুলে আনার উদ্যোগ, খেলোয়াড়বান্ধব নীতিমালা ও স্বচ্ছতা, ফেডারেশনগুলোর প্রশাসনিক স্বৈরাচার ও দুর্নীতি দূর করে বাজেট বণ্টন ও দল নির্বাচনে সম্পূর্ণ সততা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। 

অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন করে তিনি দেশের স্থবির হয়ে পড়া স্টেডিয়াম ও আধুনিক ট্রেনিং গ্রাউন্ডগুলোর সংস্কার কাজে গতি আনেন এবং স্থানীয় আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করেন। 

এছাড়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলোয়ারদের কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত ও অসচ্ছল অ্যাথলেটদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বিশেষ কল্যাণ তহবিল পুনর্গঠনে তিনি কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।

একজন খেলোয়াড় হিসেবে যে গভীর উপলব্ধি তিনি অর্জন করেছিলেন, তা-ই মন্ত্রী হিসেবে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবুজ মাঠের পোস্ট সামলানো থেকে শুরু করে দেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উদ্যমে বদলে দেওয়ার এই প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব—আমিনুল হকের বহুমাত্রিক কারিশমারই এক বাস্তব উদাহরণ।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..