হোরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ ও হুমকির মুখে নতিস্বীকার করবে না ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি মার্কিন চাপ সফলভাবেই প্রতিহত ও মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
রোববার আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্টিমসন সেন্টার’-এর ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিফর্ম প্রোগ্রামের পরিচালক ড্যান গ্রেজিয়ার।
সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন মেরিন কোর কর্মকর্তা ড্যান গ্রেজিয়ার বলেন, "ইরানিরা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক হামলা অনায়াসেই সামলে নেবে।
কারণ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই তারা বিশ্বমঞ্চে একঘরে এবং বহু বছর ধরে টানা কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভেতর দিয়ে জীবনযাপন করছে।"
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ছয় মাসের টানা সামরিক পদক্ষেপ যেখানে কোনো ফল আনতে পারল না, সেখানে স্রেফ অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করা যাবে—মার্কিন প্রশাসনের এমন ভাবনা সত্যিই অমূলক।
হঠাৎ সামরিক আগ্রাসন কমিয়ে ওয়াশিংটন কেন অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিল, তার একটি বড় কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এই সামরিক বিশ্লেষক।
ড্যান গ্রেজিয়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হতে পারে তাদের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের তীব্র ঘাটতি।
অস্ত্রের মজুদ প্রসঙ্গে তিনি জানান:
ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হলেও, পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ স্পষ্ট বলছে—দূর থেকে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের।
এই পুরো সামরিক অভিযানে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের ওপর নির্ভর করেই কৌশল সাজিয়েছিল।
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা থাকার কারণে মার্কিন বাহিনী তাদের অস্ত্রাগার একবারে খালি করে ফেলতে পারে না।
ফলশ্রুত, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের এই সংকটই ওয়াশিংটনকে বাধ্য করেছে সামরিক ময়দান ছেড়ে অর্থনৈতিক যুদ্ধের টেবিলে ফিরতে।