বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে সর্বমহলে শ্রদ্ধেয় এই নেত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে দলটি।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন
জন্ম ও পরিবার: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
আদি নিবাস ফেনীতে। ১৯৬০ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
ফার্স্ট লেডি: রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অনন্য নির্বাচনী রেকর্ড: দেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রতিটি আসনেই তিনি জয়লাভ করেন, যা দেশের ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড।
দলের নেতৃত্ব: ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
জন্মদিনের কর্মসূচি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:
আজ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকার নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রার্থনায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।
অসুস্থতা ও প্রয়াণ (আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী) প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যমতে, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও হার্টের নানা জটিলতায় ভুগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান ও ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে এই খবর দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক সংগ্রাম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক সংঘাত, কারাবাস, ব্যক্তিগত লাঞ্ছনা এবং স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোকের পরও তিনি নিজের আদর্শে অটল ছিলেন, যা তাঁকে দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’র স্বীকৃতি দিয়েছে।