আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অবস্থান করছিলেন, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে।
নিহতরা সবাই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়ায় পুরো ভবন ছেয়ে যায়।
ঢাকার বাসিন্দা আসাফুল জামাল, যিনি ব্যবসার কাজে এবং ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য শনিবার থেকে ওই ভবনের চারতলায় অবস্থান করছিলেন, জানান, "চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙে।
বাইরে থেকে সবাই চিৎকার করে বলছিল আগুন লেগেছে। নিচে নামার কোনো উপায় ছিল না, পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। আমরা কোনো মতে চারতলার সবাই সিঁড়ি দিয়ে ছাদে গিয়ে পানির ট্যাংকের পাশে আশ্রয় নিই।"
হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য যাওয়া ঢাকার অপর বাসিন্দা নাজমুল সরকারও সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, "অক্সিজেনের তীব্র অভাব তৈরি হয়েছিল, মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না।
ধোঁয়ার কারণে এক হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনো রকমে লোহার সরু সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে জীবন বাঁচাই।"
ভবনের দোতলায় পরিবার ও শিশু সন্তান নিয়ে থাকা কৌসর হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতা টের পাওয়ার পরপরই হোটেলের লোকজনের ডাকে তারা দ্রুত নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন।
তবে হুড়োহুড়ির মাঝে ঘরে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ফেলে আসায় পরবর্তীতে তা উদ্ধারে জীবন ঝুঁকি নিয়ে আবারও ভেতরে ঢুকতে হয়েছিল।
এদিকে, এই দুর্ঘটনায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গাফিলতি ও হোটেল কর্মীদের সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বেঁচে যাওয়া অতিথিরা।
পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার (অগ্নি প্রতিরোধক) না থাকা এবং জরুরি বহির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) সংকুচিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ভবনটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন।