জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন ভারতের একদল বিক্ষোভকারী।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই আন্দোলনের অন্যতম দাবি হলো জাতির পরিবর্তে মানুষের আর্থিক অবস্থাকে সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
আন্দোলনকারীরা শিক্ষা, কোচিং, বৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তার ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষকে জাতি-পরিচয় নির্বিশেষে সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় জমায়েত করে ‘রিজার্ভেশন হাটাও আন্দোলন’ নামে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আর্থিক অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যেও ‘কোটার মধ্যে কোটা’ চালু করা, গত আট দশকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম নম্বরের মানদণ্ড বজায় রাখা এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডব্লিউএস) সুবিধা আরও বাড়ানো।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমান সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা সংরক্ষিত শ্রেণির সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে সবসময় পৌঁছায় না। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি এর সুবিধা প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনের অন্যতম দাবিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইআইটি, আইআইএমসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম নম্বরের মানদণ্ড বজায় রাখার কথা বলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের যুক্তি, মেধার সঙ্গে আপস করে ভারতের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
এদিকে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য বিদ্যমান সুবিধা আরও সম্প্রসারণের দাবিও উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইডব্লিউএস হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও ফরমের মূল্য, আবাসিক হলের ফি বা কোর্স ফিতে যথেষ্ট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এসব সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবারের বিক্ষোভের পর ‘রিজার্ভেশন হাটাও আন্দোলন’ দাবি করেছে, সরকার তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তবে আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এই আন্দোলন মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠিত করা হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাটির ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫৬ লাখ অনুসারী রয়েছে।