1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

নিয়োগ-বদলি থেকে কমিশন পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

প্রতিবেদনঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইমঃ 05-09-2026 ইং
  • 31 বার পঠিত
ad728

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন-পিডিবিএএফ। গ্রামীণ মানুষের আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ তৈরি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই সরকারি সংস্থার ভেতরেই এখন প্রশাসনিক সংকটের এক দীর্ঘ ছায়া। শীর্ষ পদে একের পর এক কর্মকর্তা আসেন, দায়িত্ব নেন, সিদ্ধান্ত দেন; আবার বদলি হয়ে চলে যান। কিন্তু থেকে যায় অভিযোগ, তদন্ত আর প্রশ্ন। এই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও তৃতীয় গ্রেডের যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ হাসান।


পিডিবিএফে পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে স্থাবর সম্পত্তি কেনাকাটায় কমিশন গ্রহণ, অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য এবং সরকারি যানবাহন ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সবকিছুই এখনো প্রমাণিত নয়। বিষয়গুলো তদন্তাধীন। আর সেই তদন্ত ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—পিডিবিএফের সংকট কি একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা?


তথ্য বলছে, মো. মাহমুদ হাসান ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেষণে পিডিবিএফের পরিচালক হিসেবে পদায়ন পান। মাত্র পাঁচ দিন পর, ২২ অক্টোবর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে। এরপরই শুরু হয় একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। আর এসব সিদ্ধান্ত নিয়েই ধীরে ধীরে অভিযোগ জমাতে থাকে।


২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে। এর ১০ দিন পর, ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ তাঁকে পিডিবিএফ থেকে অবমুক্ত করার আদেশ দেয়। মাহমুদ হাসান দাপ্তরিক কাজ গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে অবমুক্তির সময় ৩ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই দিনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবিএফ ছাড়েন।


এরপর স্থায়ী এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব সুব্রত কুমার সিকদারকে পরিচালকের সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি করা হয়। কিন্তু মাহমুদ হাসান প্রতিষ্ঠান ছাড়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।


পিডিবিএফের জামালপুর অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ মাঠ কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এগোয়। অভিযোগে মূলতঃ চারটি বিষয় সামনে আসে—স্থাবর সম্পত্তি কেনা, অনিয়মিত নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন এবং সরকারি যানবাহনের ব্যবহার। প্রথম অভিযোগটি একটি জমি কেনাকে ঘিরে।


তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিডিবিএফের ১০০তম পর্ষদ সভায় ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জমি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর সঙ্গে নিবন্ধন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এই ক্রয় প্রক্রিয়া অনুমোদন ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিনিময়ে মাহমুদ হাসান ব্যক্তিগতভাবে ৬০ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছিলেন। তদন্ত নথিতে এমন অভিযোগের উল্লেখ থাকলেও এর সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ জনবল নিয়োগকে ঘিরে। পিডিবিএফের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের পদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৫টি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মাহমুদ হাসানের সময়ে এর বাইরে আরও ২ হাজার ৯৫২ জনকে অনিয়মিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কারণে সংস্থার পরিচালন ব্যয় হিসেবে প্রায় ১৭ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।


প্রশ্ন উঠছে—অনুমোদিত পদের বাইরে এত বিপুলসংখ্যক জনবল নিয়োগ কীভাবে সম্ভব হলো? এসব নিয়োগে কারা অনুমোদন দিয়েছিলেন? নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কী ধরনের বাছাই হয়েছে? এবং এর আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে? অভিযোগের আরেকটি অংশ আরও বিস্তৃত। প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ নিয়োগ থেকে বদলি-প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৭০০ সিসির প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দযোগ্য। কিন্তু মাহমুদ হাসান তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ঐ গাড়ি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু একটি নয়, মোট তিনটি সরকারি যানবাহন দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


প্রশ্ন উঠছে—সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিধি যদি স্পষ্ট থাকে, তাহলে অনুমোদন ছাড়া এই সুবিধা তিনি কীভাবে পেলেন? আর এই নিয়োগের অনুমোদনই বা দিয়েছিল কে? মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত দাবি করা আলহাজ্ব আবুল খালেক বিশ্বাস বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৯২০ সালে ১৬ নভেম্বর করা একটি অভিযোগে দাবি করা হয়, তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে বা সময়কালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একই অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট বা সাধারণ সরকারি প্রজ্ঞাপন তালিকায় তাঁর বাবার নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় পৃথক তদন্ত করছে।


তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্ত। অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তমকে। প্রথমে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রশাসনিক কারণে সেটি পিছিয়ে ৪ মার্চ করা হয়। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৫৪৩ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মাহমুদ হাসানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ এবং লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী অভিযোগগুলোকে গুরুতর হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অবস্থান ছিল, অনিয়মের ক্ষেত্রে “শূন্য সহনশীলতা” নীতি অনুসরণ করা হবে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তবে বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মো. মাহমুদ হাসান। তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যমূলক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পিডিবিএফে আগে থেকেই একটি দুর্নীতিবাজ চক্র সক্রিয় ছিল। ওই চক্র ১ হাজার ৬৬৫ জনের নিয়োগ এবং ১ হাজার ৫২ জনের অনিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছিল।


মাহমুদ হাসানের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চক্রের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের একদিকে মাহমুদ হাসান, অন্যদিকে তাঁর দাবি অনুযায়ী একটি পুরনো সিন্ডিকেট। প্রশ্ন হচ্ছে—এই দুই বক্তব্যের মধ্যে সত্য কোনটি? এর উত্তর নির্ধারণ করতে হবে নথি, নিয়োগের কাগজপত্র, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়সংক্রান্ত দলিল এবং বদলি-পদায়নের আদেশ বিশ্লেষণ করে।


প্রশাসনিক বিতর্কটি আরও আলোচনায় আসে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদের বক্তব্যে। তিনি পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তকে “বিব্রতকর” পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নতুন মন্ত্রীর চাহিদাপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলমান থাকায় পরবর্তী পদায়নের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান নেয়।


প্রশ্ন উঠছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে তাঁকে নতুন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তি সঙ্গত? পিডিবিএফের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অভিযোগের গল্প শুধু মাহমুদ হাসানকে ঘিরে নয়।


১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটিতে অতীতেও শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন এমডি মাহবুবুর রহমানকে সংস্থার সৌর প্রকল্পের অর্থ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে। এরপর ২০২০ সালে ৫৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প—পিডিবিএফ ভবন নির্মাণ, আইসিটি ও ই-সেবা এবং সোলার প্রকল্পের ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মনাজ্জুর ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানা যায়।


২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন এমডি মউদুদুর রশীদ সফদারের বিরুদ্ধেও আইনবহির্ভূত পদোন্নতিপ্রদান, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত চাকরিচ্যুতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়। অর্থাৎ অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কর্মকর্তা বদলেছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেছে। পিডিবিএফের প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় সামনে আসে—শীর্ষ পদে প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রবণতা। প্রেষণে আসা কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করে অন্যত্র চলে যান। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন। এর সঙ্গে যদি স্থায়ী কর্মীদের কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়, তাহলে নতুন কর্মকর্তার সঙ্গে পুরনো কাঠামোর সংঘাত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।


মাহমুদ হাসানের বক্তব্য যে “সিন্ডিকেট”-এর কথা এসেছে, সেই অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পিডিবিএফের সংকটের সমাধান শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি।


একই সঙ্গে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তকে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে। প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা সূচক বা কেপিআই নির্ধারণ এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে সম্পদ ও স্বার্থের তথ্য যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য বলছে, পিডিবিএফের মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণ মানুষের দারিদ্র্য কমানো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই যদি বারবার অভিযোগ, তদন্ত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আটকে থাকে, তাহলে সুবিধাভোগীদের কাছে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।


শেষ পর্যন্ত তাই প্রশ্ন একটাই—পিডিবিএফে সমস্যাটি কি মাহমুদ হাসানকে ঘিরে একটি অধ্যায়, নাকি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ? তার উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। তবে সেই প্রতিবেদন শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই হবে না; বের করে আনতে হবে সেই কাঠামোও, যেখানে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ জন্ম নেয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..