1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

জাতীয়তাবাদী আদর্শের তিন সংগ্রামী মহিয়সী নারী ও তিনটি আসনের প্রশ্ন

প্রতিবেদনঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইমঃ 19-10-2025 ইং
  • 14357 বার পঠিত
ad728

জাতীয়তাবাদী আদর্শের তিন সংগ্রামী মহিয়সী নারী ও তিনটি আসনের প্রশ্ন

 

তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে কি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ত্যাগী নেত্রীরা?

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তিনজন নারীর নাম এখন আলোচনায়

জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেত্রী বেগম মেহেরুননেছা হক,

সিলেটের তাহসিনা রুশদি (লুনা) ইলিয়াস,

এবং চট্টগ্রামের ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

 

তারা প্রত্যেকেই নিজেদের জেলায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন।

জেল-জুলুম, নির্বাসন, হয়রানি ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা বিএনপির নীতি ও আদর্শের প্রতি অটল থেকেছেন।

তবে সম্প্রতি দলের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় এসেছেএই তিন মহিয়সী নারী কি তাদের নিজ নিজ আসনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন?

মনোনয়ন বা প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদান উপেক্ষিত হচ্ছেএমন প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে।

 

---

 

বেগম মেহেরুননেছা হক: মিরপুর-পল্লবীর ত্যাগী নেত্রী

 

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কাউন্সিলর বেগম মেহেরুননেছা হক।

তিনি ২৫ বছর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

৭০ বছর বয়সেও তিনবার কারাবরণ করেছেন এবং প্রায় ২৯টি রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন।

আওয়ামী শাসনামলে তাঁর পরিবার ছিল চরম নির্যাতনের শিকার।

বড় ছেলেআইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সদস্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ড. নয়ন বাঙালিকে ২০১৫ সালে প্রেসক্লাবের সামনে হামলার শিকার হতে হয়, যা সে সময় জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

ছোট ছেলে, একজন চাকরিজীবী, তাকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নির্যাতনের শিকার করা হয়।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

তবুও মেহেরুননেছা হক সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেনমামলায় সহায়তা করেছেন, নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এমন এক নেত্রীকেও ঢাকা-১৬ আসনে বাদ দিয়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নবাগত প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

---

 

লুনা রুশদি ইলিয়াস: সিলেটের প্রতিরোধের প্রতীক

 

সিলেট-২ আসনটি একসময় পরিচিত ছিল ‘ইলিয়াস আলীর আসন নামে।

বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গুম হন।

তার পর থেকে তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি (লুনা) ইলিয়াস বিএনপির রাজনীতিতে ত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দলের কঠিন সময়েও সক্রিয় ছিলেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পান, যদিও আদালতের স্থগিতাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।

এখন আবার আলোচনা চলছেসিলেট-২ আসনে তাকে সরিয়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নতুন প্রার্থী হুমায়ুন কবিরকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু প্রার্থিতা নয়বরং ইলিয়াস আলীর ত্যাগের ধারাবাহিকতা ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতীকী উত্তরাধিকার রক্ষার প্রশ্ন।

 

---

 

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা: চট্টগ্রামের সাহসী কণ্ঠ

 

বিএনপির সাবেক হুইপ ও হাটহাজারীর জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।

আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনি লড়াইসহ অসংখ্য মামলায় ভূমিকা রাখেন।

তাকে ২০১৫ সালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করে ১০ মাস ৮ দিন কারাগারে রাখা হয়।

তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে তাকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি আখ্যা দেন, ফলে জামিনও পাননি দীর্ঘদিন।

শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট ‘নারী বিবেচনায় তাকে জামিন দেয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি আজও মাঠে সক্রিয়।

তবে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে তাকেও বাদ দিয়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নতুন প্রার্থী মীর হেলালকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী দুর্গ, যা গড়ে তুলেছিলেন তাঁর পিতা ওয়াহিদুল আলম২৩ বছরের ধারাবাহিক ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার মাধ্যমে

 

ত্যাগ না কৌশল?

 

বিএনপি এখন পুনর্গঠনের পথে।

প্রজন্ম পরিবর্তন সময়ের দাবি হলেও, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের উপেক্ষা করলে সেটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হতে পারেএমন মত প্রকাশ করেছেন দলীয় অনেক প্রবীণ নেতা।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আধুনিকায়ন ও নতুন নেতৃত্ব গঠনের স্থপতি হিসেবে কাজ করছেন।

তবে দলের শক্তি সেই ত্যাগী কর্মী-নেতাদের ওপরই দাঁড়িয়ে, যারা দুঃসময়েও পতাকা বহন করেছেন।

রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে প্রশ্ন উঠেছে

বিএনপি কি অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভারসাম্য রক্ষা করবে,

নাকি প্রজন্ম পরিবর্তনের নামে ত্যাগী নেত্রীদের পাশে সরিয়ে দেবে?

এখানে সবাই একক নেতা না - এদের গোটা পরিবার দলের কারনে নির্যাতিত, সরাসরি বিএনপি করেছে কিন্তু যারা তারের রহমানের দোহাই দিয়ে এখন দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত বলে ঘোষনা দিচ্ছেন তারা কি বলতে পারবে তাদের বৌ বা সন্তান বিএনপি করে বা জেল খেটেছে বা পরিবার নির্যাতিত হয়ে দেশ ছেড়েছে

 

ইতিহাসই এর উত্তর দেবে

বিএনপি কি ত্যাগীদের সম্মান বজায় রাখবে, নাকি কৌশলের নামে আদর্শের মূলভিত নড়বড়ে করবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728