1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

রাজনীতির স্কুল বাংগালির পাঠশালার প্রধান নয়ন বাংগালির ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 19-05-2026 ইং
  • 1722 বার পঠিত
ad728

যেন নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের জয়গান শোনালেন নয়ন বাংগালি। বাংলাদেশে যার বিরুদ্ধে পতিত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সন্ত্রাস করার অভিযোগ করেছিল, তৎপরতা ছিল তাকে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বানানোর, চেষ্টা হয়েছিল তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার - সেই ব‍্যক্তি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে জবাব দিলেন তাকে ঘিরে চলা যাবতীয় ষড়যন্ত্রের।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রক্ষণশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত Liberty University থেকে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন। বিশাল ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, উন্নত একাডেমিক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছে। প্রায় সাত হাজার একরেরও বেশি বিস্তৃত ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণাগার, ডিজিটাল লাইব্রেরি, নীতিনির্ধারণমূলক গবেষণা কার্যক্রম এবং বহুমাত্রিক একাডেমিক প্রোগ্রাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

নয়ন বাংগালির গবেষণার বিষয় ছিল The Role of Educational Policy and Law and its challenges in Reforming Modern Education Systems. গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক কনভেনশনে নয়ন বাংগালীকে সনদ প্রদান করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ অসংখ্য কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরবৃন্দ। 

নয়ন বাংগালির সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে অবগতরা মনে করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এই মানুষটির ওপর অত্যাচার করে তাকে দেশছাড়া করে তার অবিচল সংগ্রামে বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি। বরং এক অর্থে  উপকার করেছে। ড. ইউনূস সরকারও তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সে কার্যক্রমে যাননি। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এসে নির্বাচন করতে বলেছিলেন কিন্তু নয়ন বাংগালি বলেছেন এমপি-মন্ত্রী হওয়াই তার রাজনীতির শেষ গন্তব্য না। তার সক্রিয়তা সুস্থ ধারার রাজনীতি বিকাশের স্বার্থে। 

নয়ন বাংগালি স্বপ্ন দেখেন দলবাজি আর মিছিল নির্ভর রাজনীতি নয়, বরং ঘরে ঘরে শিল্প বিপ্লব উপযোগী ও মানবিক মানুষ গড়ার। তার বক্তব্য এ প্রসঙ্গে হচ্ছে এমন যে, আগামী ১০ বছর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময়ে মানুষকে মিছিলে আর নেতার পিছনে, গাড়ির পিছনে দৌড়ানোর জন‍্য ব‍্যস্ত রাখা ঠিক হবে না।

নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানে গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে ড. নয়ন বাংগালী শিক্ষা সংস্কার, শিক্ষানীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষা আইন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তার গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল  কিভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী করা যায় এবং কিভাবে শিক্ষা আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।

ড. নয়ন বাংগালীর গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা সংস্কারের বাস্তবধর্মী প্রয়োগ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালা প্রণয়ন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি হল সুশিক্ষা, আর সেই শিক্ষাকে কার্যকর করতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত আইন, দক্ষ প্রশাসন এবং গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা।

এই ডক্টরেট ডিগ্রি শুধুমাত্র একটি একাডেমিক অর্জন নয়; এটি একজন নির্বাসিত মানুষের দীর্ঘ চার বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ, অধ্যাবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের প্রতীক। বিদেশের মাটিতে নানা প্রতিকূলতা, মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তিনি তার শিক্ষা ও গবেষণার পথ থেকে বিচ্যুত হননি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে জ্ঞানচর্চা ও আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার মানুষকে অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি শিক্ষা উন্নয়ন, গবেষণা এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত সকল মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। ড. নয়ন বাংগালীর গবেষণা আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়।

রাজনীতির স্কুলের শিক্ষক নয়ন বাংগালি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালো রাজনীতি ও নেতৃত্ব তৈরির কাজে মনোযোগী হতে চান। তার ভাবনা হচ্ছে, নিজে নেতা হওয়ার অস্থিরতা বাদ দিতে হবে। অন‍্যের মধ্যে আলো ছড়াতে হবে।    

মানুষ চাইলে সব অসাধ‍্য হয় আর সেই চাওয়াটা যদি রাজনীতির স্বার্থ মাথায় রেখে, দেশের ও দশের কথা চিন্তা করে হয় তাহলে কামিয়াবি তার দুয়ারে ।

ড. নয়ন বাংগালি বাংলাদেশে ব‍্যতিক্রম এক রাজনীতিবিদের নাম যিনি প্রথম রাজনীতির পাঠশালা শুরু করেন ২০১০ থেকে। কিন্তু হাসিনা তার এই কাজকে সন্ত্রাসী গড়ার পাঠশালা বানানোর বদনাম মাথায় দিয়ে তাকে দেশ ছাড়া করান। 

নেতা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতে হলে যে নিজেকে প্রশিক্ষিত হতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে তেমনটি ভাবনা নয়ন বাংগালির। একসময়ে শহরে জন্ম নেয়া এই মানুষটি গ্রামে চলে যান গ্রাম রাজনীতি বোঝার জন‍্য। কিভাবে নির্বাসিত অনিশ্চিত জীবনে থেকে বিশ্বের কঠিন সময়ে পড়াশুনা, কিভাবে নেপথ্যে থেকে রাজনীতির স্কুল গড়ার কাজে মনোযোগী হওয়া যায় তার দৃষ্টান্ত ড. নয়ন বাংগালি। বাংলাদেশী হিসেবে তার অর্জন বাতিঘরের মতো পথ দেখায় অগণন মানুষকে। 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728